সুমন্ত বর্মন
নেয়ানডার্থাল বা মানব জাতির পূর্বপুরুষ বাস করতো কোন জায়গাতে? জানতে পারলাম যেখানে আছি তার থেকে খুব বেশি দূরে নয় জায়গাটা। গত দুই বছর ধরে ড্যুসেলডর্ফ শহরে আছি। আর এই শহর আর ভুপারটালের মাঝেই জায়গাটা, আমার ডর্ম থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে। তাই তিন বন্ধুকে সাথে নিয়ে গ্রীষ্মের এক রোববার দুপুরে বের হয়ে পড়লাম।
যেতে খুব বেশি সময় লাগলো না। প্রায় ২৩ একর জায়গা নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত জায়গা আইসসাইটলিসেস ভিল্ডগেহেগে নেয়ানডারটাল। নানা প্রজাতির প্রাণী এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে এই ভিল্ডগেহেগে-তে। জার্মান ভাষায় যার অর্থ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা। নেয়ানডার্থালদের উৎপত্তি ছিলো এক সময় জার্মানির এই এলাকা থেকে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চার বন্ধু মিলে ঘুরে দেখলাম জায়গাটি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করলাম যার কিছুটা অবশ্য ক্যামেরায় তুলে রাখতে ভুলিনি।
কে ভাবতে পারে ৪০ হাজার বছর আগে এমনই প্রকৃতির সান্নিধ্যে শিকার করে বেড়াতো মানব জাতির পূর্বপুরুষ নেয়ানডার্থালরা। টারপিন ফুলের ক্ষেত আমাদের দেশের হলুদ শর্ষে ক্ষেতের কথা মনে করিয়ে দেয়! দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় যেন। সবুজ ঘাসের জঙ্গলের ভেতর থেকে উঁকি দিয়ে দেখছে হাঁসেরা। আমাদের ছবি তুলতে দেখে হয়তো ভাবছে এরা আবার কারা? আমাদের দেখে এই ছোট্ট হরিণ শাবকটি তার মায়াভরা চোখ দিয়ে কীভাবে তাকিয়ে ছিল! বেশ কিছু হরিণের দেখাও পেয়েছি ভিল্ডগেহেগে-তে। এভাবে হরিণের পাল একসঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে উন্মুক্ত প্রকৃতিতে। দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত আমরা ঘুরে বেড়িয়েছি ভিল্ডগেহেগে-তে। সমতল কিংবা কখনো উঁচু টিলা এসে পড়েছে আমাদের সামনে। টিলাতে ওঠার জন্য আবার এভাবে কাঠের সিঁড়ি পেতে দেওয়া হয়েছে। পথে যেতে যেত চোখ পড়লো বাইসনের ওপর। বাইসন বললেই অ্যামেরিকান বাইসনের কথা মনে পড়ে। তবে এই ইউরেশিয়ান গোত্রের বাইসনও দেখতে পেলাম ভিল্ডগেহেগে-তে। নিবিষ্টমনে ঘাষ খেয়ে চলেছে নিরীহ প্রাণীটি। আমার মনে হয়েছে এটা হেক ক্যাটল, যেটা দেখতে গৃহপালিত গরুর মত মনে হলেও আকারে এর চেয়ে বেশ বড়। জার্মানিতেই এই হেক ক্যাটলের উৎপত্তি। গায়ের লম্বা পশম দেখে মনে হয় গরু আর বাইসনের মিলিত রুপ।