Categories
প্রবাস সাক্ষাতকার

“দক্ষতা থাকলে আপনি জার্মানিতে জায়গা করে নিতে পারবেন”

বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ জিয়া হাসান জার্মানিতে বাস করছেন পাঁচ বছর ধরে। দেশে বিদেশে কাজ করা এই গবেষক এখন কাজ করছেন টেকনিশে হোকশুলে ওস্টভেস্টফালেন লিপ্পের প্রকল্প গবেষক হিসেবে। নিজের গবেষণার পাশাপাশি লেখালেখি করেন সোশ্যাল মিডিয়াতে, প্রসঙ্গ বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং রাজনীতি। বাংলাদেশে আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে লেখালেখির কারণে সাবেক স্বৈরশাসক হাসিনা সরকারের খড়গ নেমে এসেছিল তাঁর লেখা বই “উন্নয়ন বিভ্রম” এর ওপর। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কথা বলেছেন সীমান্ত ম্যাগাজিনের সঙ্গে।


সীমান্ত: বাংলাদেশে স্বৈরশাসনের পতনের জন্য দেশের বাইরে প্রবাসীরাও ব্যাপক বিক্ষোভ এবং প্রতিবাদ করেছে। এই ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?

জিয়া হাসান: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পেছনে অন্যতম অবদান রেখেছে জার্মানির প্রবাসীরা। এমন কোন ছোট বড় শহর ছিল না যেখানে প্রবাসীরা বাংলাদেশে ছাত্র জনতার ওপর হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানায়নি। প্রায় সবগুলো শহরে বাংলাদেশী ছাত্ররা দলে দলে নেমে এসেছে, বিক্ষোভও মানব বন্ধন করেছে। আমি নিজে অনেক জায়গাতে অংশ নিয়েছি। প্রবাসীদের বিক্ষোভ আর প্রতিবাদের কারণে জার্মানির মানুষেরা জানতে পেরেছে বাংলাদেশে কী ঘটনা ঘটছে। জার্মানির প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবদান অনেক বড় বলে আমি মনে করি।


সীমান্ত: বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে শুধু দেশের মানুষ নয় বিদেশেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। জার্মানিও তার ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে বলে আপনার মনে হয়?

জিয়া হাসান: সত্যি বলতে কী, বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসনের আন্তরিকতা রয়েছে কিন্তু তাদের মধ্যে প্রশাসন চালানোর জন্য সামর্থ্যের অভাব আছে বলে আমার মনে হয়। জুলাই আগস্টের অভ্যুত্থানের পর আমি বাংলাদেশ গিয়েছিলাম, সেখানকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করেছি। প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের জন্য কৌশলপত্র তৈরি করার কাজে আমি নিজে সহায়তা করেছি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে সরকারের মধ্যে প্রশাসনিক দক্ষতার যথেষ্ট অভাব আছে। তাদের এখনও অনেক কাজ বাকী, কিন্তু সেখানে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। আইন শৃংখলার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ খুব দ্রুত হতাশ হয়ে পড়ছে।


সীমান্ত: প্রবাসী বাংলাদেশীরা এই ক্ষেত্রে কী করতে পারে?

জিয়া হাসান: খুব বেশি কিছু করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ আমরা প্রবাস থেকে যে পরামর্শগুলো দিয়েছিলাম তার প্রায় বেশিরভাগই বর্তমান প্রশাসন গ্রহণ করেনি। শুধু প্রবাসী মন্ত্রণালয় থেকে দুয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেমন প্রবাসীরা এখন ঋণ নিতে পারবেন যেটা নতুন চালু করা হয়েছে। হাসিনার সরকারের আমলারা সহযোগিতা করছেনা। একদিকে অনভিজ্ঞতা আরেক দিকে অসহযোগিতা আরেক দিকে নিত্য নতুন ইস্যুর চাপে তারা খেই হারিয়ে ফেলছেন।

সীমান্ত: পড়ালেখা এবং কর্মসূত্রে আপনি বিভিন্ন দেশে থেকেছেন, সেখানার বাংলাদেশী প্রবাসীদের দেখেছেন। তারা সেসব দেশগুলোতে কী ধরণের অবদান রেখে চলেছে?

জিয়া হাসান: আমি বলবো বাংলাদেশের প্রবাসীদের সব দেশেই সুনাম আছে। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে তাদের আন্তরিকতা এবং কঠোর পরিশ্রম সকলের নজর কাড়ে। আমরা আমাদের দেশে থাকা পরিবারদের কথা চিন্তা করি, ফলে আমাদের একটা ফোকাস থাকে। আমরা অন্য কাজে সময় নষ্ট করি কম। জার্মানির কথা যদি বলেন, তাহলে বলবো এখানকার পদ্ধতি ইউরোপের অন্য দেশগুলো থেকে একটু আলাদা। এখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা একটু বেশি, তবে আপনি যদি একবার পদ্ধতিটা ধরতে পারেন তাহলে আপনার জন্য সম্ভাবনার দুয়ার খোলা। জার্মানিতে দিন দিন দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে এবং বাংলাদেশীদের এদেশে অবদান রাখার সুযোগটাও তাই অনেক বেশি। এদেশের সিস্টেমটাই এমন যে যোগ্যতা এবং দক্ষতা থাকলে আপনি আপনার নিজের জায়গা করে নিতে পারবেন।

সীমান্ত: জার্মানি এবং বাংলাদেশের মধ্যে কোন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রটি সম্ভাবনাময় বলে আপনি মনে করেন?

জিয়া হাসান: জার্মানিতে বাংলাদেশের প্রচুর জনবল পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই জার্মানির প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। কিন্ত এর সাথে সাথে জুতা, হস্তশিল্প অথবা হস্তশিল্প সামগ্রী এবং ফুটবল সহ বিভিন্ন আইটেম পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইরাসমুস প্রোগ্রামের অধীনে ছাত্র বিনিময় চুক্তি করতে পারে। এর পাশাপাশি জার্মানির উচ্চতর প্রযুক্তি বাজারে বাংলাদেশের প্রযুক্তির যোগান দেওয়ার সুযোগ আছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।