বিগত ২০২৩ সালের মে মাস থেকে নেটজভের্ক পলিটিক আটেলিয়ের তে আইনে-ভেল্ট নেটজ সংস্থার রিগিওনালপ্রমোটারিন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ভানেসা প্যুলেন, যার দায়িত্ব হচ্ছে বন ও তার আশেপাশের সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোকে পরামর্শ দেওয়া এবং তাদের মধ্যে যোগবন্ধন করা। উন্নয়ন নীতিমালা এবং আন্তসাংস্কৃতিক প্রকল্প চালু ও সেক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যৎমুখী সমাজ কী ধরণের হতে পারে তার একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বিগত ২০১৪ সাল থেকে তিনি স্কুলগুলোতে বৈশ্বিক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন যার লক্ষ্য ছিলো পোশাক শিল্পে ন্যায্য ব্যবসা ও শ্রম ও মানবাধিকার। সীমান্ত ম্যাগাজিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন তাঁর বর্তমান দায়িত্ব এবং প্রবাসী সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে।
সীমান্ত: আপনার কাজে সবচে বড় চ্যালেঞ্জ কোনগুলো?

ভানেসা প্যুলেন: আমার প্রায় যে চ্যালেঞ্জটা মোকাবিলা করতে হয় তা হলো সমন্বয়ক হিসেবে স্থানীয় এবং বনের সুশীল সমাজের মধ্যে কাজ করাটা। এই ক্ষেত্রে দুই পক্ষের নানাবিধ স্বার্থের দিকে খেয়াল রাখতে হয় এবং তা উপযুক্তভাবে রক্ষা করতে হয়। আবার এটা একই সঙ্গে কঠিন এবং আমার অত্যন্ত প্রিয় একটি কাজ; বনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজকে আরও বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং সেটার স্বীকৃতিকে আরও সহায়তা করা। এর বাইরে আরও একটা বড় কাজ হচ্ছে বনের প্রবাসী সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড এবং কাজের বিষয়গুলোকে শহরের পরিমণ্ডলের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া যাতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। এছাড়া আমার জন্য আরও একটা বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তাদের সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনগুলোকে জানতে পারা। আমার মতে, বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার প্রতি আরও সুনির্দিষ্টভাবে সাড়া দেওয়া, তাদের আগ্রহের প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হওয়া এবং দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্যকে পর্যাপ্তভাবে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রচুর গবেষণা, নিবিড় যোগাযোগ এবং সংবেদনশীলতার প্রয়োজন।
সীমান্ত: ইন্টেগ্রেশন এবং মাইগ্রেশন এর দিক থেকে বনের অবস্থা কেমন?
ভানেসা প্যুলেন: বনে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সার্ভিস সেন্টার এবং ভালো কর্মসূচি রয়েছে যার মাধ্যমে অভিবাসীদের একটি মৌলিক সুযোগ প্রদান করা হয়ে থাকে। এর উদাহরণ হচ্ছে স্থানীয় ইন্টেগ্রেশন সেন্টার, যা ভাষা শিক্ষার, আন্তসাংস্কৃতিক মতবিনিময় ও শিক্ষা কর্মসূচি ও প্রকল্পগুলো সমন্বয় করে। এছাড়া বন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আন্তর্জাতিক সম্মিলনকেন্দ্র তো রয়েছেই। আমার মতে যেসব সুযোগ আছে সেগুলো কেমন হবে এবং তা কীভাবে পাওয়া যাবে সেগুলোর ব্যাপারে আরও সম্ভাবনা রয়েছে। অভিবাসীদের অংশগ্রহণের জন্য অন্তর্ভূক্তিমূলক এবং লক্ষ্য গোষ্ঠীমূলক যোগাযোগ অপরিহার্য যেমন ডিজিটাল পদ্ধতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা। ভাষাগত সাংস্কৃতিক পার্থক্যকে বিবেচনায় নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি টেকসইভাবে স্থানীয় সুযোগগুলোর গুরুত্ব এবং গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করে এবং সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
সীমান্ত: প্রতি বছর অভিবাসী সংগঠনগুলোর সংখ্যা বাড়ছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই সংগঠনগুলোকে আরও কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়?
ভানেসা প্যুলেন: এই সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক আলোচনায় আনতে হলে একটা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে যেখানে তারা তাদের ইস্যুগুলোকে তুলে ধরতে পারবে। এই ধরণের প্ল্যাটফর্মগুলো হলে অভিবাসী সংগঠনগুলো কেবল দৃশ্যমান হবে না বরং তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। এর বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত এই অভিবাসী সংগঠনগুলোকে দর কষাকষি এবং প্রভাব বিস্তারের জন্য আরও যোগ্য করে তোলা। এটা সম্ভব সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন এবং নেটওয়ার্ক বাড়ানোর মাধ্যমে যার ফলে সংগঠনগুলো তাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারে এবং তাদের ইস্যুগুলোকে জনসম্মুখে আনতে পারে। সেক্ষেত্রে অভিবাসী সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতে আরও তৎপর করে তোলাটা গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক পরিবর্তন আনতে শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়। ইন্টেগ্রেশন ও অভিবাসন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে একটা দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অভাব রয়েছে যেটা স্বল্পমেয়াদী সমাধানের ঊর্ধে বিবেচনা করবে।