রিয়াজুল ইসলাম
গত ২৫ মার্চ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি ঐতিহাসিক ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। ঘানার পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবনাটি, যা আটলান্টিকের দুই পাড়ের দাস ব্যবসাকে “মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ” হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানায়, সেটি ১২৩ টি দেশের ভোটে গৃহীত হয়। মাত্র তিনটি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয়; যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং আর্জেন্টিনা। ৫২টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে, যার মধ্যে রয়েছে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলি, জার্মানিও তাদের একজন।
আটলান্টিকের দুই পাড়ের দাস ব্যবসা ইতিহাসের কোনো করুণ পাদটীকা নয়। এটি ছিল সেই ইঞ্জিন যা দিয়ে গ্লোবাল সাউথের ঔপনিবেশায়ন সম্ভব হয়েছিল। ক্যারিবীয় অঞ্চলের বাগান থেকে শুরু করে আফ্রিকা ও এশিয়ার খনিজ সম্পদ লুণ্ঠন, এই দাসপ্রথা কোটি কোটি মানুষকে পদ্ধতিগতভাবে শোষণ করেছিল। দাসদের হাড় মজ্জার ওপর নির্মাণ করেছিল আধুনিক পুঁজিবাদ ও মুক্ত বাণিজ্য অর্থনীতি।
এরপরও জার্মানি তথা ইউরোপ ভোটদানে বিরত ছিল। বিরত থাকা কোন নিরপেক্ষতা নয়। বরং এটি নিজেদের দায় এড়ানোর এক রাজনৈতিক পদক্ষেপ। জার্মানি ছিল এই দুষ্কর্মের সরাসরি উপকারভোগী। উপনিবেশ থেকে আরোহিত সম্পদ জার্মান শিল্পায়নে অর্থ যুগিয়েছে। এই নৃশংস অতীত ইতিহাস থেকে ইউরোপীয় সমৃদ্ধিকে পুরোপুরি আলাদা করা যায় না।
জার্মানি ও ইউরোপ এই দায় এড়াতে পারে না। ক্ষতিপূরণ ছাড়া এই রকম স্বীকৃতির কোন অর্থ নেই। ভোটাভুটি শেষ। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে, ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়ের উপকারভোগীরা কি শেষ পর্যন্ত তাদের ঋণ পরিশোধ করবে?
সীমান্ত ম্যাগাজিনের ১০ বছর পূর্তি! এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের অসংখ্য পাঠক, নিবেদিতপ্রাণ লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের কারণে। এজন্য আপনাদের সঙ্গ, আস্থা ও সংহতির জন্য থাকলো আন্তরিক ধন্যবাদ। আগামী দশ বছরের জন্য শুভকামনা!