বিগত ১৯৯৭ সাল থেকে বনে বাস করেন গের্গানা ঘানবারিয়ান বালেভা। বন শহরের একীকরণ ও বৈচিত্র দপ্তরে কর্মরত দোভাষীদের মধ্যে সবচে অভিজ্ঞ একজন। গেল জুলাই মাসে তিনি নেট্সভের্ক পলিটিক আটেলিয়ের সংগঠনের কমিটিতেও নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বুলগেরিয়ায় জন্ম নেওয়া এই নারী বনের “ভিন্ন চোখে দেখা- সবার জন্য গড়া” প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সীমান্ত ম্যাগাজিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কথা বলেন তাঁর প্রবাস জীবন, পেশাগত ও স্বেচ্ছাসেবক কর্মকাণ্ড নিয়ে।
সীমান্ত: ঘানবারিয়ান বালেভা, আপনি বিগত ২০০২ সাল থেকে বনের একীকরণ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। আপনার এত বছরের কাজের পেছনের প্রেরণা কী?
গের্গানাঘানবারিয়ানবালেভা: এর পেছনে সবচে বেশি যেটা কাজ করেছে সেটা হলো জার্মানিতে যারা নতুন আসেন তাদেরকে সাহায্য করার ইচ্ছা। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই আমি জানি শুরুটা এখানে কতটা চ্যালেঞ্জের- প্রায় শুন্য থেকেই এখানে শুরু করতে হয়। এই সময়টাতে সাহায্য সহযোগিতার ওপর মানুষের ভবিষ্যত নির্ভর করে। এক্ষেত্রে আমার ভূমিকা হলো মানুষটা যেন অন্যদের মতই সমান সুযোগটা পায় এবং সেটা সে বাস্তবে অনুভব করতে পারে।

সীমান্ত: প্রায় তিরিশ বছর ধরে আপনি জার্মানিতে বাস করছেন। এদেশে আসার পর শুরুর দিকে আপনার জন্য কোনটা বেশি চ্যালেঞ্জের ছিল?
গের্গানাঘানবারিয়ানবালেভা: জার্মানিতে শুরুর দিকে আমাকে বিশেষ করে মোকাবিলা করতে হয়েছে মানুষের অজ্ঞতা আর কুসংস্কার এর – সেটা সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক উভয় পর্যায়ে। ভিসা নেই, কাজের অনুমতি নেই, ভিসা বাড়বে কীনা তারও ঠিক নেই, এই অবস্থাতে একটা স্বাভাবিক জীবন যাপন করা প্রায় অসম্ভব; কেউ আমাকে বাসা ভাড়া দিতে চাইতো না, কেউ আমাকে কাজে নিতে চাইতো না।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর দাপ্তরিক পরষ্পরবিরোধী নিয়মকানুন পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছিল। শুধু আমার বন্ধুবান্ধবদের সহযোগিতা আর পড়ালেখায় ভালো রেজাল্টের কারণে আমি শেষ পর্যন্ত জার্মান সরকারের বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পেরেছিলাম।
পরবর্তীতে পেশাগত জীবনে আমার মনে হয়েছে আমাকে অন্যদের চেয়ে দ্বিগুন ভালো করতে হবে। এবং তাহলে এই দেশে যারা জন্ম নিয়েছে কিংবা আগে থেকেই এই সমাজে থাকছে তাদের সমান পর্যায়ে আসতে পারবো। এটা আমার শরীর আর মনের ওপর লম্বা ধকল তৈরি করেছিল।
সীমান্ত: আপনি এই মুহুর্তে ইভাঞ্জেলিক্যাল গির্জার প্রবাস ও শরণার্থী বিষয়ক প্রকল্প “ভিন্ন চোখে দেখা- সবার জন্য গড়া” পরিচালনা করছেন। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং বিষয়বস্তু কী?
গের্গানাঘানবারিয়ানবালেভা: প্রকল্পের মূল বিষয়ের মধ্যে রয়েছে তাদের অন্তর্ভূক্তি ও অংশগ্রহণ – বিশেষ করে যারা অভিবাসী কিংবা শরণার্থী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমরা এমন একটি জায়গা তৈরি করতে চাই যেখানে বৈচিত্র দৃশ্যমান হবে, কোন প্রতিবন্ধকতা থাকবে না এবং সত্যিকার পারষ্পরিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে।
ব্যক্তিগতভাবে এই প্রকল্প আমার জন্য একটি মূল্যবান সুযোগ কেবল আমার সামাজিক ও আন্তঃসাংস্কৃতিক দক্ষতা বৃদ্ধিই নয় পাশাপাশি আমার সৃজনশীলতাকেও কাজে লাগানোর। আমার দায়িত্বের মাধ্যমে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো আমাকে আরও পরিণত করছে এবং আমি নানা রকমের মানুষের সাথে মেশাটাকে গুরুত্ব দেই।
সীমান্ত: লেখালেখির মধ্যে আপনি গদ্য লিখে থাকেন। কোন বিষয়টি নিয়ে মূলত আপনি সাহিত্য চর্চা করেন?
গের্গানাঘানবারিয়ানবালেভা: প্রথমত আমি আত্মজীবনীমূলক লেখা লিখি- কারণ আমি বুঝতে পেরেছি তাহলেই আমার লেখা হয় নির্ভেজাল এবং আমি পাঠককে স্পর্শ করতে পারি। বিশেষ করে যখন থেকে আমি জার্মানিতে বাস করছি তখন থেকে আমি চেষ্টা করি আমার সাহিত্যকর্ম যেন দুই ভিন্ন সংস্কৃতিকে নিয়ে হয়। সেক্ষেত্রে প্রায়ই বেদনাদায়ক আবার অদ্ভুত অভিজ্ঞতাগুলো আমার লেখাতে চলে আসে, যেগুলো আমার আন্তর্জাতিক জীবনীতে ঘটেছে।
সেক্ষেত্রে আমার বিষয় সর্বজনীন: আমার দেশ, আর কীভাবে আমার দেশ আমাকে গড়ে তুলেছে- আর আমার এই জন্মস্থানের কারণে মানুষ কীভাবে আমাকে নির্দিষ্ট খোপে ফেলার চেষ্টা করে। আমি আরও লেখি একজন নারী, মা এবং কর্মজীবী মহিলা হিসেবে আমাকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় তা নিয়ে- আমার অতীত, নানা ঐতিহাসিক ঘটনা যা আমার প্রজন্মকে গড়ে তুলেছে, যেমন রাজনৈতিক বদল কিংবা শীতল যুদ্ধ।